এবার ক্ষমতাসীন দল থেকে তিন এমপির পদত্যাগ

0
165

ডেস্ক রিপোর্ট: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট নামে পরিচিত) কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাটকীয়তা শেষ হচ্ছে না। ব্রেক্সিট নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে এবার ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিন এমপি। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-র কাছে লেখা এক যৌথ চিঠিতে তাঁরা পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পদত্যাগ করা তিন এমপি হলেন অ্যানা সোবরি, সারাহ উলস্টন ও হেইডি অ্যালেন। এঁরা তিনজনই ব্রেক্সিটের বিরোধী এবং সরকারের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার কট্টর সমালোচক।
এর আগে গত সোমবার বিরোধী দল লেবার পার্টি থেকে চুকা উমুন্না, লুসিয়ানা বার্গার, ক্রিস লেজলি, অ্যাঞ্জেলা স্মিথ, মাইক গেইপস, গেভিন শুকার ও অ্যান কোফি—এই সাত এমপি পদত্যাগ করেন। পরদিন মঙ্গলবার দলটির আরেক এমপি জোয়ান রায়ানও এই পদত্যাগীদের কাতারে যোগ দেন। এঁরাও সবাই ব্রেক্সিটবিরোধী। তবে লেবার এমপিরা পদত্যাগের কারণ হিসেবে দলের ব্রেক্সিটনীতির পাশাপাশি লেবার নেতা করবিনের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন এবং লেবার পার্টি ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।
পদত্যাগী লেবার এমপিরা রাজনীতিতে উদার মধ্যপন্থীদের প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা দেন। স্বতন্ত্র গ্রুপ হিসেবে তাঁরা সংসদে ভূমিকা রাখবেন বলে জানান। ক্ষমতাসীন দল থেকে পদত্যাগ করা তিন সাংসদও এই স্বতন্ত্র গ্রুপে যোগ দিয়েছেন।
প্রধান দুই রাজনৈতিক দল থেকে সাংসদদের পদত্যাগের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সংসদের চিত্রও বেশ বদলে গেল। নতুন এই স্বতন্ত্র গ্রুপে আইনপ্রণেতার সংখ্যা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের সমান। সরকারের অংশীদার ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিকেও (ডিইউপি) ছাড়িয়ে গেছে এই স্বতন্ত্র গ্রুপ। ডিইউপির আইনপ্রণেতার সংখ্যা ১০ জন। আর স্বতন্ত্র গ্রুপে আইনপ্রণেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
প্রধানমন্ত্রী মে-র উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিন এমপি বলেন, একসময় অর্থনীতির সুরক্ষার জন্য যে দলটি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ছিল, সেই দল এখন বেপরোয়াভাবে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের দিকে হাঁটছে, যা হবে দেশের অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক। কট্টর ব্রেক্সিটপন্থীদের রুখে দাঁড়াতে মে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তিন এমপির পদত্যাগের ঘটনায় ‘ব্যথিত’ বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর দল সব সময়ই পরিচ্ছন্ন, মধ্যপন্থী এবং দেশপ্রেমের রাজনীতি করে যাবে। তিনি বলেন, ইইউতে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদের বিষয়টি দল এবং দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার দশক পর এই সদস্যপদ ত্যাগের প্রক্রিয়াটি মোটেই সহজ নয়। তবে নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের রায় মেনে কাজ করাটাই দেশের জন্য সঠিক।
ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) কার্যকর করা নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে মতবিরোধ এখন চরমে। গণভোটে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতা ব্রেক্সিটের বিপক্ষে প্রচার চালান। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেন। এখন এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গিয়ে আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ পুনরায় গণভোট চাইছে, একটি অংশ বলছে, বিচ্ছেদ হলেও যেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকে। আবার আরেকটি অংশ ইইউর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ মানতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, প্রয়োজনে চুক্তি ছাড়াই বিচ্ছেদ হোক। এমন বহুমুখী অবস্থান নিয়েই প্রধান দুই দলের নেতৃত্বের সঙ্গে পেছন সারির এমপিদের বিরোধ চরমে।
আগামী ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট কার্যকর হবে। দিনক্ষণ ঠিক করা আছে। বাকি মাত্র ৬ সপ্তাহ। এই সময়ে ব্রিটিশ রাজনীতির নাটকীয়তা আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here