তামিলরা যেভাবে ভাষাশহীদ হয়েছিলেন

0
157

পাকিস্তান জন্মের পরপরই বাঙালি দেখতে পেল বহুল ব্যবহৃত মানি অর্ডার ফরমটা বাংলায় নয়, শুধু উর্দুতে লেখা। সেটাই প্রথম ধাক্কা। সেটাই কার্যত হৃদয় চিরে উঠে আসা প্রথম ‘না’। এরপর দীর্ঘ পথচলার ভেতর দিয়ে আমাদের ভাষা ও স্বাধীনতা অর্জন। তবে যেটা অনেকেরই জানা নেই, সেটা হলো আমাদের মতো মাতৃভাষার আন্দোলন না হলেও ভাষা নিয়ে ব্রিটিশ ভারতের এক বিশাল অংশই সেকালে ভাষার আন্দোলনের সূচনা প্রত্যক্ষ করেছিল। যার যবনিকা ঘটে স্বাধীন ভারতে ১৯৬৫ সালে। ওই আন্দোলন ২৮ বছর দীর্ঘায়িত হয়েছিল। সেটা ছিল খালি চোখে ইংরেজি ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। কিন্তু বাস্তবে তা ছিল হিন্দি ভাষা প্রতিহত করার আন্দোলন। নেহরুর তিরোধানের পর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এই ভাষার আন্দোলনকারী রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করেন। মহারাষ্ট্র, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা—সব কটি রাজ্য, যেখানে হিন্দি মাতৃভাষা ছিল না, এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। এর পূর্ববৃত্তান্ত বলা দরকার।
কংগ্রেসের মূল নেতৃবৃন্দের অধিকাংশ ছিলেন হিন্দিভাষী। যেমনটি ছিলেন মুসলিম লীগের নেতারা উর্দুভাষী। ১৯২০ সালের মাদ্রাজ নির্বাচনে কংগ্রেস স্থানীয় দল জাস্টিস পার্টির কাছে পরাজিত হয়। এই সময় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ ভারতের সংসদে বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষিত আসনের বিধান করেছিল, যার মূলে ছিল প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের ধারণা। প্রদেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা করা হয়। দুই কক্ষেই সৃষ্টি করা হয় সংরক্ষিত আসন। সাধারণ আসন, অর্থাৎ যেকোনো ধর্মের মানুষ সেই আসনগুলোয় নির্বাচন করতে পারতেন। মুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল সবচেয়ে বেশি। কেবল মুসলিমরাই তাতে প্রার্থী হতে পারতেন। বাংলাসহ বহু প্রদেশে মুসলিম সংরক্ষিত আসনগুলোয় কংগ্রেস তার দলীয় মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করায়। মুসলিম সংরক্ষিত আসন প্রদেশগুলোর মোট আসনের প্রায় অর্ধেক ছিল। বিভিন্ন নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য ছিল তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের তালিকা, সেই তালিকার আসনগুলোয় কেবল ওই শ্রেণির মানুষই প্রার্থী হতে পারত।
১৯৩৫ সালের সংরক্ষিত আসনের আগে ১৯৩২ সালে ব্রিটিশরা বিভাজনের রাজনীতির আরেকটি সংযোজন ঘটাতে চেয়েছিল। তখন তারা দলিত শ্রেণির জন্য আলাদা নির্বাচনী ব্যবস্থা করেছিল। গান্ধী ১৯৩২ সালে এই ধারণার বিরুদ্ধে অনশন শুরু করেন। যুক্তি ছিল, এর ফলে গোষ্ঠী ও নিম্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে আরও বেশি সংঘাতের সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, এই ধারণার পক্ষে ছিলেন ভারতীয় সংবিধানের রচনাকারী কমিটির চেয়ারম্যান ড. বি আর আম্বেদকার। তিনি নিজেও একজন দলিত শ্রেণির মানুষ। তার বাবা ছিলেন ভারতীয় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ট্রাকচালক। ড. আম্বেদকার পরে গান্ধীর যুক্তি মেনে নেন।
১৯৩৭ সালে ১১টি প্রদেশে নির্বাচন হয়। এতে মুসলিম লীগের ব্যাপক পরাজয় ঘটে। তারা কোনো প্রদেশেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১১টি প্রদেশের মোট ১ হাজার ৫৮৬ আসনের মধ্যে ৭০৭টি আসনে কংগ্রেস জয়লাভ করে। আর মুসলিম লীগ পায় ১০৬টি আসন। সাধারণ আসনের ৮০০-র বেশি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পায় ৬০০-র বেশি আসন। কংগ্রেস বাংলা, পাঞ্জাব ও নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে মুসলিম লীগের এই পরাজয় প্রমাণ করে, ভারতীয় মুসলিমরা তখনো আলাদা মুসলিম লীগের নেতৃত্ব মেনে নেয়নি। সেই নির্বাচনে খুব সামান্য ভারতীয় ভোটদানের অধিকার পেয়েছিলেন। কারণ, ভোটার হওয়ার নানা শর্ত ছিল। আজকের মতো সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ধারণায় ভোটার হওয়া যেত না। কর প্রদানকারী উচ্চ শ্রেণির মানুষেরাই ছিল মূল ভোটার। মুসলিম ভোটারসংখ্যা হিন্দু ভোটারের চেয়ে কম ছিল। নির্বাচনে ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়ে মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে জিন্নাহ প্রস্তাব করেছিলেন, কংগ্রেস তার কোনো মুসলমান সদস্যকে মন্ত্রী বানাতে পারবে না। কারণ, মুসলিম লীগই হলো মুসলমানদের একমাত্র প্রতিনিধি। কংগ্রেস সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। কংগ্রেস দল হিসেবে সর্বভারতীয় ব্যাপক সাফল্য পায়।
বাংলায় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ত্যাগ করে ১৯৩৩ সালে কলকাতার মেয়র থাকার সময় নতুন দল কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে ৩৬টি আসনে তাঁর দল জয়ী হয়। কংগ্রেসের সমর্থনে বাংলার প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর দুটি দাবি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এক. জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ, দুই. কৃষকদের মহাজনের ঋণ থেকে উদ্ধার করার জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন। মাদ্রাজের নির্বাচনে ২১৫ আসনের মধ্যে ১৫৯টি জয়লাভ করে কংগ্রেস। মুসলিম লীগ পায় ছয়টি আর জাস্টিস পার্টি পায় ১৮টি। জাস্টিস পার্টি দীর্ঘ ১৭ বছর (১৯২০-৩৭) ক্ষমতায় ছিল মাদ্রাজে। কংগ্রেস নেতা সি রাজা গোপাল আচারিয়া ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এখানেই জন্ম নেয় এক নির্দয় রাজনৈতিক ইতিহাস। মাদ্রাজের ওই নির্বাচন কংগ্রেসকে যেমন দক্ষিণের বিশাল জনগোষ্ঠীকে শাসন করার ক্ষমতা অর্জন করার সুযোগ করেছিল, আবার তাদের সরকারই ভারতের এই তামিল ভাষাভাষী এলাকা থেকে কংগ্রেসের শাসনকে চিরতরে বিদায় করেছিল। কারণ ছিল ভাষা।
দাক্ষিণাত্যের (ডেকান) বিশাল অংশে নানা ভাষা, যেমন: তামিল, মালায়লাম, তেলেগু, কন্নড়সহ পাঁচ থেকে ছয়টি অতি পুরোনো ভাষা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা এবং শিক্ষার ভাষা হিসেবে চালু ছিল। এর সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ শাসন ও ভারতের সর্ব দক্ষিণের এই অঞ্চলে বহুকাল ধরে ইংরেজি ভাষা তার নিজের জায়গা করে নিয়েছিল। কংগ্রেস নেতা গান্ধী, নেহরু, প্যাটেল, আজাদের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার কথা সাধারণভাবে সুবিদিত। কিন্তু এই একটি ক্ষেত্রে তাঁরা ভুল করেছিলেন। তাঁদের অদূরদর্শিতার কারণে মাদ্রাজে ১৯৩৭ সালে রাজা আচারিয়ার সরকার হিন্দিকে মাদ্রাজের শিক্ষার ভাষা হিসেবে চালু করতে মাদ্রাজ পার্লামেন্টে আইন করার চেষ্টা করে। অথচ তাঁরা জানতেন, এই অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ তামিল ভাষাভাষী। তামিল ভাষার মানুষ পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে আছে। এটি ভারতীয় ভাষার মধ্যে অন্যতম পুরোনো ভাষা। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ সাল থেকে আদি তামিল ভাষার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। রাজা আচারিয়ার মাদ্রাজ সরকারের ওই সিদ্ধান্তে সর্ব দক্ষিণের সমগ্র মানুষ ফুসে ওঠে। এই অবস্থার সঙ্গে আমাদের বায়ান্নর ভাষার আন্দোলনের প্রাক্ পর্বের তুলনীয়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার নারী-পুরুষ কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়। স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণ করে।
মাতৃভাষা প্রশ্নে উপমহাদেশের এই আন্দোলন জিন্নাহ সাহেবের না জানার কথা ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের সেই সময়ে মুসলমানদের উর্দু ভাষার অংশ হিন্দি ভাষার পক্ষ অবলম্বন করে। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিদিন হিন্দির বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত ছিল। দিল্লিতে বসে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা ওই অঞ্চলের মানুষের নাড়ির স্পন্দন টের পাননি।
অবশেষে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ১৯৩৯ সালের নভেম্বর মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘোষণা প্রদান করলে কংগ্রেস সেই যুদ্ধে অংশ নিতে এবং ভারতবাসীর বিনা অনুমতিতে যুদ্ধের ঘোষণায় কংগ্রেস তার আট প্রদেশের ক্ষমতা থেকে মন্ত্রীদের পদত্যাগের ঘোষণা দেয়। মুসলিম লীগের জিন্নাহ ব্রিটিশের সেই যুদ্ধের ঘোষণাকে সমর্থন দেন। রাজা আচারিয়া মাদ্রাজ সরকার থেকে পদত্যাগ করে ১৯৩৫ সালের আইন অনুসারে গভর্নরের শাসন জারির পথ সুগম করেন। ব্রিটিশ গভর্নর দ্রুত হিন্দি ভাষার আইন বাতিল করার ফলে এই পর্যায়ে আন্দোলন স্থগিত হয়।
এই ভাষার আন্দোলন আবার ফিরে আসে ভারতের স্বাধীনতার পর। ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধান বলল, ১৯৬৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে সব রাজ্যে সর্বস্তরের হিন্দি হবে প্রধান ভাষা। কংগ্রেস নেতারা সবাই মূলত উত্তর ভারতের হওয়ায় দক্ষিণের মানুষের অনুভূতি উপলব্ধি করেননি। তাই সংবিধান গ্রহণের পর থেকেই হিন্দিভাষী অঞ্চলের বাইরে সর্বত্র অসন্তোষ ধূমায়িত হতে থাকে। তামিল ছাত্ররা সব বছরই ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস ২৬ জানুয়ারিতে ভাষার প্রশ্নে প্রতিবাদ ও আপত্তি অব্যাহত রাখেন। এখানেও একটি পরিহাসের কথা বলব। জিন্নাহ ঢাকায় একটি বাক্য উচ্চারণ করেই যেভাবে বিব্রত হয়েছিলেন, তাৎক্ষণিক প্রবল প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে কিছুটা তুলনীয় একটি অধ্যায় তারপর নেহরুর জীবনে ঘটেছিল। নেহরু হয়তো তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেননি।
১৯৫৮ সালে নেহরু মাদ্রাজ সফরে গিয়ে তামিলভাষীদের ভাষা আন্দোলনের বিষয়ে তির্যক মন্তব্য ‘ননসেন্স’ বলায় একটি রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই দিন মাদুরায় সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন স্তব্ধ করা হয়।
নেহরু অবশ্য পরে দক্ষিণ ভারতের মানুষের অনুভূতি বুঝতে পেরে ১৯৬৩ সালে ভাষা বিষয়ে সংবিধানে বর্ণিত ধারায় পরিবর্তন আনেন। সেখানে বলা হয়েছিল, কোনো প্রদেশ চাইলে প্রচলিত ইংরেজি ভাষা ১৯৬৫-র জানুয়ারির পরেও অব্যাহত রাখতে পারবে। কিন্তু তামিল ছাত্ররা সংশোধনী সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
আচমকা নেহরুর মৃত্যু হলে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন এবং সংবিধানের ভাষাবিষয়ক চ্যাপ্টারের কার্যকর হওয়ার দিন ১৯৬৫ সালের ২৬ জানুয়ারির আগের দিন ২৫ জানুয়ারি তামিলনাড়ুর ছাত্ররা প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত হন। তাঁরা কংগ্রেস কর্মী ও পুলিশ দ্বারা আক্রান্ত হন। দুজন স্কুলছাত্র নিজ দেহে অগ্নিসংযোগ করে আত্মাহুতি দেন। ভয়ংকর সেই দাঙ্গা ভারতের অন্য সব প্রদেশকেই কমবেশি প্রভাবিত করেছিল। আসাম, বাংলাসহ অন্য সব অহিন্দি প্রদেশেও তার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রের লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সরকার সংকটের গুরুত্ব বুঝতে পারে।
তামিলনাড়ুতে মৃত মানুষের সংখ্যা দেড় শতাধিক। সরকার বলেছিল, পুলিশের গুলিতে ৫০ থেকে ৬০ জন নিহত হয়েছে। তখন শাস্ত্রী সরকারের দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। শাস্ত্রী তড়িঘড়ি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বেতার ভাষণে ইংরেজির স্বীকৃতি প্রদান করেন। এভাবে তামিলভাষী মানুষের ইংরেজি ভাষা বাস্তবায়নের আন্দোলনের বিজয়ের ভেতর দিয়ে তামিলনাড়ু থেকে কংগ্রেস চিরতরে বিদায় হয়। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে ডিএমকে ক্ষমতায় আসে। কমপক্ষে দেড় শ ভাষাশহীদের এই রাজ্যে আর কখনো ক্ষমতার মুখ দেখেনি কংগ্রেস। তবে ২০০৪ সালে ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম ইতিহাসে প্রথম তামিলকে ধ্রুপদি ভাষা হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি ঘোষণা করেন।
মনোয়ারুল হক: সমাজতাত্ত্বিক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here