চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জে সরকারী গাছ কর্তণ, অভিযোগ এনজিও মালিক মাসুদের বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাঘিতলা এলাকার একটি খাস জমির সরকারী গাছ কেটে নিয়ে নিজেদের প্রজেক্টের গাছ লাগিয়ে জায়গাটি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার একটি ক্লাব ও স্থানীয় এনজিও মধুমতির বিরুদ্ধে। জানা গেছে, একরামুল হক খুদি যুব উন্নয়ন ক্লাবের সভাপতি ও মধুমতি এনজিও’র মালিক মো. মাসুদ রানা ক্লাবের পাশের সরকারী খাস জমিতে লাগানো ১১ টি সরকারী গাছ বিক্রির পর ক্রেতা মঙ্গলবার বিকেলে ওই গাছগুলো কাটা আরম্ভ করেন। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ভূমি অফিস কেটে ফেলা ওই গাছগুলো জব্দ করে। স্থানীয়রা জানান, একরামুল হক খুদি যুব উন্নয়ন ক্লাবের পাশ দিয়ে বহমান একটি খাড়ী পাশের মাটিতে সরকারী খাস জায়গার নিম, পিঠালী ও মেহগণির মোট ১১ টি গাছ ছিলো। যা একই এলাকার শিবনারায়নপুর গ্রামের মতিউর রহমানের কাছে বিক্রি করেন ক্লাবের সভাপতি ও এনজিও মালিক মাসুদ রানা। মঙ্গলবার বিকেলে ৫টি গাছ কাটার পর বিষয়টি জানাজানি হলে কানসাট তহসিল অফিস থেকে সরজমিনে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং কাটা গাছগুলো জব্দ করা হয়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কেটে নেয়া গাছগুলোর স্থানে ক্লাবের পক্ষ থেকে মেহগনি গাছ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং কাটা গাছগুলোর গোড়ার উপরে মাটি দিয়ে দেয় ক্লাবের কয়েকজন সদস্য। মেহগনি গাছ লাগানোর সময় ক্লাবের এক সদস্য মাসুদ জানান, বনোজ গাছ গুলো কেটে এখানে মেহগনি গাছ লাগানো হচ্ছে। এ জায়গাটি দেখাশুনার দায়িত্ব ক্লাবের তাই ক্লাবের পক্ষ থেকে গাছগুলো কাটা হয়েছে।স্থানীয় এলাকাবাসী আহসান হাবিব গাছগুলো কাটার অনুমতি ক্লাবকে কে দিয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে জানান, গাছগুলো যারা কেটেছে তারা তা অবৈধভাবে কেটেছে। এটা মোটেই সঠিক হয়নি। অন্যদিকে ক্রেতা মতিউর রহমান জানান, ক্লাবের সভাপতি ও মতুমতি এনজিও’র মালিক মো. মাসুদ রানা গাছগুলো তার কাছে বিক্রি করায় তিনি এ গাছগুলো কেটেছেন। এ ব্যাপারে কানসাট তহসিল অফিসের তহসিলদার মো. নূরুল ইসলাম মোবারকপুর তহসিল অফিসের বরাত দিয়ে জানান, চকহরিরাম মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ১২১ নং দাগের ৩৭ শতাংশ খালের জমির ওপর ১১টি গাছ অবৈধভাবে বিক্রির পর কাটার সময় খবর পেয়ে বাধা দেয়া হয়েছে এবং কেটে নেয়া গাছগুলো জব্দ করে এ নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সকল বিষয় অস্বীকার করে ক্লাবের সভাপতি ও মধুমতি এনজিও’র মালিক মাসুদ রানা অসংলগ্ন উত্তরে জানান, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমি ওই দিন ঢাকায় ছিলাম। পরক্ষণেই আবার বলেন, কেটে নেয়া গাছের জায়গায় মেহগনি গাছ লাগানো হয়েছে। আর সরকারী কাছ কাটার নিয়মের বিষয়ে আমার কিছুই জানান নাই। মিশটেক হয়ে গেছে। অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী অফিসার সাকিব আল রাব্বি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারী গাছ কোনভাবেই কেউ কাটতে পারবেন না। আর যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তারা যত বড়ই ক্ষমতার অধিকারী হোননা কেন বা যে দলেরই হোন আইন সকলের জন্য সমান। বিষয়টি তদন্ত করে এর সাথে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *