রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে মানুষের পার্শ্বে সাংবাদিক হায়দার আলী

 

ছোট্ট ব্যাবসার ফাঁকে ছুটে যান অসহায় মানুষের দ্বারে। দুস্থদের খাবার ও নতুন পোশাক পৌঁছে দেন। ও তীব্র শীতে নিম্নআয়ের মানুষগুলো যখন অসহায়। ছুটে যান তাদের কাছে। ব্যস্ত হয়ে পড়েন শীতবস্ত্র বিতরণে। আবার কখনও অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যবস্থা। তিনি চৌডালা মাদ্রাসা পাড়া গ্রামের পেশায় একজন আম ব্যাবসায়ী আলী।

 

যিনি চোখের সামনে কোনো মানবিক বিপর্যয় দেখলেই ছুটে যান সেখানে। এলাকার মানুষদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবেই অধিক পরিচিত।

 

হায়দার আলীর কোনো সিনেমার গল্পের চেয়েও কম নয়। তার জন্ম গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা গ্রামে। তার পিতাও একজন ছোট্ট ব্যাবসায়ী বাবার ৪ সদস্যের পরিবারে অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠতে হয়েছে তাকে। সময়টা ২০১৯ সাল। কলেজে ভর্তির জন্য বাড়ির ছাগলটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি করেন। সেই টাকা দিয়ে ভর্তি হন কলেজে। এরপর শুরু হয় জীবন সংগ্রামের নতুন অধ্যায়।

 

ব্যাবসায়ী বাবার পক্ষে তার পড়ালেখার খরচ বহন করা অসাধ্য হয়ে উঠে। এক সময় টিউশনি শুরু করেন। শত বাধা পেরিয়ে নিজের টাকায় চালিয়েছেন পড়াশোনা শেষ পর্যন্ত টাকার অভাবে যোগ দেন কৃষি কাজে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আম ব্যাবসার সাথে যোগদান করে সবাই যখন আরাম আয়েশে দিন কাটাতে ব্যস্ত, তখন মানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। দিনরাত ছুটে চলেছেন অসহায়দের দ্বারে দ্বারে।

 

ছোট থেকে দেখেছেন প্রকৃতির সাথে লড়াই করে মানুষের বেঁচে থাকার দৃশ্য। ছোট থেকেই কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন দুর্যোগে অসহায় মানুষের আর্তনাদ। তখন সংকল্প ছিল প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজের অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করার। এ লক্ষে ব্যাবসাতে যোগদানের পর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে  সততার সাথে মানবতার পার্শ্বে আমাদের রক্ত করবো দান বাঁচবে দুটি প্রাণ স্লোগানে গড়ে তোলেন সামাজিক সেবা সংগঠন ‘

 

এরপর থেকে শুরু করেন অসহায়দের সহায়তা কার্যক্রম। চৌডালা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে গোমস্তাপুর, রহনপুর, বোয়ালিয়া,  বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এ সংগঠনের কাজ।

 

ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে অর্থিক সাহায্য একই সঙ্গে বিভিন্ন উৎসবে দরিদ্রদের মাঝে পোশাক বিতরণ, খাবার সরবরাহ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করেছে এ সংগঠন।

 

তখন মানবতার টানে ছুটে গেছে সংগঠনের সদস্যরা।  কর্মহীন হয়ে কষ্টে দিনাপাতি করছে এমন অসংখ্য মানুষ। এমন কিছু মানুষদেরও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

 

অর্থের যোগান দেন যেভাবে সমাজের হৃদয়বান মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে চলেছে সংগঠনটি। হায়দার  আলী বলেন, ‘আমাদের ‘ সততার সাথে মানবতার পার্শ্বে নামে ফেসবুকে পেজ ও গ্রুপ আছে। এখানে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরি। কাউকে সহযোগিতার পূর্বে আমরা প্রথমে তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেই। সবাই মিলে পরামর্শ করে যে যেমন পারি অর্থ জোগাড় করি। ফেসবুকে পোস্ট দেই। জনগণকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর অনুরোধ করি। এসব দেখে দেশের অনেকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। এক্ষেত্রে চাকুরী জিবিরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।’ এসময় আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এসব মানবিক কাজে সমাজের মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরা বেশি সহযোগিতা করলেও বিত্তবানদের সহযোগিতা তেমন চোখে পড়ে না।’

 

মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মাঝে আনন্দ খুঁজে পান হায়দার আলী। তিনি বলেন, ‘মানবিক কাজের মধ্যে অন্যরকম প্রশান্তি আছে। যখন কোনো আসহায়, দুস্থ মানুষকে সাহায্যের মাধ্যমে তার মুখে হাসি ফোটাতে পারি, তখন হৃদয়টা প্রশান্তিতে ভরে যায়। এ প্রশান্তি আর কোথাও পাইনা। মানব সেবার মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকালীন সফলতাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রত্যেকেই যদি নিজের জায়গা থেকে সমাজের অসহায় মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে, তবে এ পৃথিবীটা মানবিক বিশ্ব হিসেবে গড়ে উঠবে।’ বলে মনে করেন তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজকে গোমস্তাপুর মহানন্দা ক্লিনিকে এক অসহায় ব্যাক্তিকে রক্ত দান করলেন

119970cookie-checkরক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে মানুষের পার্শ্বে সাংবাদিক হায়দার আলী

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *