চীন-রাশিয়ার ভ্যাকসিন দেশে উৎপাদনে অনুমোদন

অগ্রিম টাকা নেয়ার পরও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে সেরামের টিকা রফতানি বন্ধ করার পর বিকল্প হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে করোনাভাইরাসের টিকা আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল সরকার। এরপর এ দুটি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনের জন্য চুক্তিও সই করেছে বাংলাদেশ। রাশিয়ার স্পুটনিক-৫ এবং চীনের সিনো ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

এবার এ দুটি দেশে উদ্ভাবিত করোনার টিকা বাংলাদেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির মাধ্যমে দেশেই উৎপাদনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্কিত মন্ত্রিসভার কমিটি। ফলে দেশে এ দুটি দেশের করোনার টিকা উৎপাদনে সব জটিলতা দূর হলো। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী জানান, বৈঠকে দেশে চীন ও রাশিয়ার টিকা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যেসব কোম্পানির সঙ্গে ওই দুটি দেশের চুক্তি হবে তারা টিকা উৎপাদন শুরু করবে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব অনুমোদনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কিট ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর কেনাকাটার দুটি প্রস্তাব ছিল। যেহেতু ভারত টিকা রফতানি বন্ধ করেছে তাই বিকল্প সোর্স থেকে টিকা নেয়ার জন্য বৈঠকে রাশিয়া ও চীনের দুটি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির টিকা উৎপাদনের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কেনো কোনো ওষুধ কোম্পানির মাধ্যমে এ টিকা উৎপাদন হবে তা এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি। তিনি জানান, আপাতত নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যখন চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির ছ‚ড়ান্ত চুক্তি হবে তখন অর্থ ছাড়ের চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। এর আগে ২২ এপ্রিল রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনের জন্য চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ। তবে দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে টিকা উৎপাদনের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও টিকা কিনবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে টিকা দিতে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

 

গতকালের সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্কিত কমিটির অনুমোদনের জন্য তিনটি এবং ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য সাতটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। ক্রয়ের প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তিনটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয়ের প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৮০৮ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ১৬৪ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে এক হাজার ৭৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং ভারতীয় ঋণ ১৬ কোটি তিন লাখ ৪৫ হাজার ৩১৮ টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। মালয়েশিয়ায় সরকার পরিবর্তনের কারণে দুটি প্রস্তাবে সে দেশের সরকার অনুমোদন দেয়নি।

অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশর স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের অতিরিক্ত মাটি ভরাটসহ হল/বাসভবন/প্রশাসনিক ভবন, অন্যান্য অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণ কাজের ৩৬টি অঙ্গের ক্রয় কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) মাধ্যমে আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট এবং পিসিআর ল্যাব কনজ্যুমেবলস সরাসরি ক্রয় এবং সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায় ১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হেভি ফুয়েল ওয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে দেশ এনার্জির সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদে চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ৩৯৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিগনালিংসহ ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ভেঞ্চারে ভারতের এভেরা অ্যাসোসিয়েশন আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ারিং কন্ট্রাকশন এবং আয়েশা ইন্টোনেরিয়া ইক্যুইপমেন্ট মেয়াদ ২৪ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধিজনিত কারণে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৬ কোটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩১৮ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতায় ‘ঢাকাস্থ উত্তরা ১৮ নং সেক্টরের স্বল্প ও মধ্যম আয়ের জনসাধারণের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত ‘বি ও সি বøকে ১৬ তলা বিশিষ্ট ১০৪টি ভবন পাঁচ হাজার ৯৭ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৫ টাকায় নির্মাণ কার্যক্রম বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে ‘নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্পের লট নং-১(এ) এর পূর্ত কাজ নুরানী কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে ৬৭ কোটি ৩০ লাখ ৮ হাজার ৭ টাকায় কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং ‘এক্সপানশন অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল’ প্রকল্পের ডবিøইউ-০১ প্যাকেজের পূর্ত কাজ ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন থেকে ১২৪ কোটি ৩১ লাখ ২ হাজার ৮৩৯ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *