লকডাউনের মধ্যেই পুরোদমে চলছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ। ৫ হাজার শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এগোচ্ছে সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে সাড়ে ১৫ শতাংশ কাজ হলেও কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে সম্পূর্ণ কাজ। এটি চালু হলে যাত্রীসেবা ও আধুনিকতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে এ বিমানবন্দরে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বলাকা ভবনের পাশে সাড়ে ৩০০ একর জমির ওপর চলছে তৃতীয় এ টার্মিনাল নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে টার্মিনাল ভবনের পাইলিং। দাঁড়িয়ে গেছে ভিত। করোনা মহামারিতেও প্রকল্পের কাজ সচল রাখতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রকল্প এলাকায় ৫ শতাধিক শ্রমিকের আবাসনের ব্যবস্থা ছাড়াও স্থাপন করা হয়েছে মেডিকেল সেন্টার। লকডাউনে সব দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল না থাকায় আটকা পড়েছেন প্রকল্পে নিযুক্ত অনেক বিদেশি প্রকৌশলী ও পরামর্শক। তবে, অনলাইনে যোগাযোগের কারণে তেমন সমস্যা হচ্ছে না, বললেন সিভিল অ্যাভিয়েশন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, টার্মিনাল ভবনের পাশাপাশি রানওয়ের যে সংযোগ, তা অতিরিক্ত করা হয়েছে। ওই কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ওখানে এখন পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। পদ্ম ফুলের আদলে নান্দনিক নকশার ততৃীয় টার্মিনালটি হলে পাল্টে যাবে পুরো বিমানবন্দরের চেহারা। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়ায় দূর হবে যাত্রী হয়রানি ও ভোগান্তি। আর বাংলাদেশ হয়ে উঠবে এ অঞ্চলে আকাশপথে যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্রস্থল। ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজের মধ্যে প্রথম ধাপে নির্মিত হবে ১২টি। থাকবে ১৬টি লাগেজ বেল্ট, বহুতল কার পার্কিং, উড়োজাহাজ রাখার ৩৫টি পার্কিং বে, দুটি র‌্যাপিড এক্সিট টেক্সিওয়ে, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, এক্সিলেটর ও বিদ্যুতের সাবস্টেশনসহ বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা। থাকবে আমদানি ও রপ্তানির জন্য সুপরিসর কার্গো ভিলেজ। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ। এভিয়েশন চেয়ারম্যান বলেন, এটা হলে এখানে পার্কিং সুবিধা বাড়বে। আকাশ যোগাযোগ আরও বাড়বে। অনেক দেশে এখানে আসবে। বিদ্যমান টার্মিনাল দুটির সক্ষমতা ফুরিয়ে আসায় বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট নামলে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। তৃতীয় টার্মিনাল হলে বছরে ২ কোটি যাত্রীকে সেবা দিতে পারবে আন্তর্জাতিক এ বিমানবন্দর।

কোনো নিরীহ হেফাজত-বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘কোনও নিরীহ হেফাজত নেতা বা বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না । গ্রেফতার করা হচ্ছে অপরাধীদের। আলেম-ওলামাদের নয়, যারা আগুন সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সম্প্রতি বেশ কিছু গ্রেফতারের সমালোচনার জবাবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও দেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে।  এখানে কল্পকাহিনি তৈরির কোনও সুযোগ নেই। ঢাকা, হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তারপরও সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে বিএনপি বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে মনগড়া কল্পকাহিনি তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।’

 

১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, তথাকথিত ৭ নভেম্বর এবং ২১ আগস্ট ঘটিয়ে চক্রান্তের পথে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

 

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে সরকারের জনভিত্তি ঠিকই আছে, তবে গত একযুগ ধরে বিএনপির নানান আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে জনবিচ্ছিন্ন। বিএনপির রাজনীতির শেকড় বাংলাদেশের মাটির গভীরে নয়, অন্য কোথাও।  শেখ হাসিনা সরকারের শেকড় এ দেশের মাটির অনেক গভীরে।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *