ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে ট্রেনের টিকেট, নেই শনাক্তের ব্যবস্থা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচেপড়া ভিড়। কাউন্টারের সামনে মধ্যরাত থেকেই ছিলো টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। কিন্তু করোনায় বদলে গেছে অনেক কিছুই। করোনাকালে এবারের ঈদে অনেক রুটের ট্রেন বন্ধ। ঢাকা থেকে মাত্র ১৭টি রুটে চলছে ট্রেন। বাকি সবগুলোই বন্ধ। যে কারণে রেলের টিকিট প্রত্যাশীদের বাড়তি চাপ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রির সহযোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সার্ভিস লিঃ (সিএনএস) এর পরিচালক ইকরাম ইকবাল জানান, এবার ট্রেনের সংখ্যা কম কিন্তু টিকিটের চাহিদা বেশী হওয়ার ফলে সবাই টিকিট পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, অল্প টিকিটের বিপরীতে বহু সংখ্যক মানুষ এক সাথে সার্ভারে ক্লিক করছে অনবরত। একারণে হয়ত সার্ভারের কিছু সমস্যা হতে পারে। তবে আমাদের প্রতিদিন যে পরিমাণ টিকিট বিক্রি করার কথা রয়েছে আমরা সেই পরিমাণ বিক্রি করতে পারছি। তাছাড়া করোনার কারণে প্রতিটি ট্রেনে মোট আসনের অর্ধেক টিকিট বিক্রি হচ্ছে ফলে টিকিটের চাহিদাও বেশী। প্রতিদিন যে পরিমাণ টিকিট বিক্রির জন্য বরাদ্দ তার চেয়ে বহুগুণ বেশী মানুষ টিকিটের জন্য সার্ভারে ক্লিক করেই যাচ্ছেন ফলে বেশীর ভাগই টিকিট বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এবার সব গন্তব্যেরই একটির বেশী ট্রেন নাই ফলে চাহিদা অনেক তাই প্রত্যাশীদের বেশীর ভাগই টিকিট পাচ্ছেন না। এখানে সিএনএস বিডির কোনো কারসাজি নেই।

টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীদের নানা অভিযোগ ও টিকিটের অব্যবস্থা নিয়ে শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।

তিনি লিখেছেন, ২৯/০৭/২০২০ তারিখের ট্রেনের টিকিট দেয়া হয়েছে ভোর ৬টা থেকে। ১ সেকেন্ডের অনেক কম সময়ে টিকিট কেটে ফেলেছে ৫০১ জন। এরপর ২ সেকেন্ডের কম সময়ে কেটেছে ২২২ জন। এরপর মাত্র ৪/৫ সেকেন্ডে কেটেছে ৩৭২ জন। এভাবে সকাল ৮.২৫ মিনিট পর্যন্ত কেটেছে সর্বমোট ৪২২৬ জন। সকাল ১০.৫২ পর্যন্ত টিকিট পেয়েছে ৫১৪৪ জন। আপনারা এদের পিছনে ছিলেন বলেই টিকিট পাননি। দেখেছেন, সাইট হ্যাং হয়ে আছে। করোনার কারণে এবার সামান্য ট্রেন, সামান্য টিকিট।

এসব বিষয়ে ইকরাম ইকবাল বলেন, একসাথে টিকিট কাটার জন্য ওয়েব সাইটে ৩/৪ লাখ লোক ক্লিক করতে পারেন সুতরাং অল্প সময়ে টিকিট বিক্রি হবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া টিকিট প্রত্যাশীরা টিকিট কাটার সব প্রস্তুতি নিয়ে রাত থেকেই সার্ভার ওপেন করে বসে থাকেন ভোর ৬ টায় টিকিট ওপেন হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয় লক্ষ লক্ষ মানুষের ক্লিক।

অতিরিক্ত সচিব আরও বলে, আজ এক মোবাইল দিয়ে দুইবারে ৮টি টিকেট করেছেন, এমন একজনের মোবাইলে রিং দিয়ে সংযোগ বন্ধ পাওয়া গেল। এনআইডি নাম্বার দিয়েছে ভুয়া। ঐ নাম্বারে কোন এনআইডি নেই। নাম ভুয়া। এই লোক যদি ট্রেনে কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে, তবে তাকে ধরা খুব কঠিন।

এসব অনিয়মের ব্যাপারে সিএনএসের পরিচালক ইকরাম ইকবাল বলেন, একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে সপ্তাহে দুবার টিকিট টাকা যাবে। প্রতিবার সর্বোচ্চ ৪ টি করে। ৮ টি টিকিটের যে অভিযোগ এসেছে, তা ওই ব্যক্তি ৪ টি করে দুইবারে সংগ্রহ করেছেন। এখানে অনিয়মের কোন কিছু নেই। যেহেতু সপ্তাহে দুবার টিকিট নেয়া যায় ওই ব্যক্তি এক দিনেই দুবার নিয়েছেন।

আর ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপারে ইকরাম ইকবাল বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্র আসল না নকল তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা আমাদের ওয়েব সাইটে নাই। কেননা জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্যই আমাদের কাছে নাই। রেলওয়ে যদি নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের সব তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের ওয়েব সাইটে সংযুক্ত করে তবেই আমরা তা শনাক্ত করতে পারবো।

কেননা জাতীয় পরিচয় পত্র রাষ্ট্রীয় তথ্য ভাণ্ডার। এইটা রাষ্ট্র কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করেনা, এতে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি থাকে। এই জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র আসল না নকল তা আমাদের পক্ষে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব না। এব্যাপারে রেলকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

এসব ব্যাপার নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, টিকিট কাটার ওয়েব সাইটে জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করার ব্যাপারে আমাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে কিভাবে কি করা হবে এসব নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। কবে নাগাদ তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে তা বলা যাচ্ছেনা।

16780cookie-checkভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে ট্রেনের টিকেট, নেই শনাক্তের ব্যবস্থা

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *