নাচোলে ৪ বছর ধরে কয়েকটি পরিবারের সরকারি চাল ভোগ করছে আ.লীগ নেতা ও ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরনের কয়েকটি কার্ড নিজের কাছে রেখে গত ৪ বছর ধরে ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও ডিলারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমাজের নিম্ন আয়ের অসহায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে দেয়া এসব সুবিধা নিজে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছেন এই দুই ব্যক্তি। নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাচোল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. ইউসুফ আলী কার্ড করে দেয়ার নামে অসহায় পরিবারগুলোর কাছে ছবি ও ভোটার আইডি নেয়ার পর কার্ড হয়ে গেলেও তা ওই পরিবারগুলোর মাঝে দেন নি। ২০১৬ সাল থেকে নিজেই কসবা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের কয়েকটি পরিবারের ১০ টাকা কেজির চাল ভোগ করেন ইউসুফ আলী ও কসবা ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজি চালের ডিলার বাবু। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলিল লেখকদের যেখানে করুণ অবস্থা, সেখানে এসব করেই ইউসুফ আলী কিনেছেন জমি, বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি।

কসবা ইউনিয়নের কাজলা-চৌপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে বিধবা মোসা. আলেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ১০ টাকা কেজির কার্ড করার জন্য ইউসুফ আলীকে আমার ছবি ও ভোটার আইডির ফটোকপি জমা দেয়। এরপর ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আমার কার্ডের কি হয়েছে তার কোনকিছুই জানি না। এই ৪ বছর খাওয়ার পর হঠাৎ দেড় মাস আগে ইউসুফ আমাকে আমার কার্ড দিয়েছে। এসময় ইউসুফ আলী তার কাছে এমন কাজের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান আলেয়া খাতুন।

কাজলা মোড়ের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে দিনমজুর মো. ইসমাইলেরও একই অবস্থা। তিনিও কার্ড করতে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ইউসুফ আলীকে। আর কার্ড ফেরত পেলেন ৪ বছর পর। ইসমাইলের স্রী জানান, আল্লাহই ভালো জানে, গত ৪ বছরে আমাদের কার্ড ব্যবহার করে কে বা কারা চাল তুলেছে। গরিব অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল যে ভোগ করেছে তার কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। ৪ বছর পরে ইউসুফ আলীই তাদের বাড়িতে এসে কার্ড দিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

পুরাতন রেলগেট এলাকার সাগর আলী ফড়িংয়ের কার্ডেরও একই অবস্থা। ৪ বছর অদৃশ্য থাকার গত দুই মাস আগে ইউসুফ আলীর মাধ্যমেই হাতে পেয়েছেন ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড। গত ৪ বছর ধরে ১০ টাকা কেজির চাল থেকে বঞ্চিত এমন আরো কয়েকটি পরিবারের সন্ধান পেলেও তারা কথা বলতে নারাজ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কসবা ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাচোল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, আমি এধরনের কোন অনিয়মের সাথে কখনোই জড়িত ছিলাম না।

কসবা ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজির চালের ডিলার বাবু মুঠোফোনে জানান, এবিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনাদের যা ইচ্ছা করতে পারেন।

এবিষয়ে কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আজিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, এধরনের কোন কিছু সম্পর্কে আমার জানা নেয়। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ শুধু কার্ড তৈরিতে সহায়তা করে। চাল কে পেলো তা আমরা জানি না।

নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি চালের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে কার্ড দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *