ঘুষ নিয়েও বয়স্ক ভাতার কার্ড দিলো না মেম্বার

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে একজন হতদরিদ্র মহিলার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আলেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে। আলেয়া খাতুন উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সালেহা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। সালেহা খাতুন খানমরিচ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ছায়দার আলীর স্ত্রী।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খানমরিচ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ৬৭ বছর বয়সী ছায়দার আলী একজন দিনমজুর। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ থাকায় কাজ করতে পারেন না। এতে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে ছায়দার আলীর ওপর। তাই বাধ্য হয়ে ছায়দার আলীর স্ত্রী সালেহা খাতুন তার স্বামীর নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড করার জন্য গত এপ্রিল মাসে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলেয়া খাতুনের কাছে আবেদন করেন। এসময় কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য আলেয়া খাতুন ভুক্তভোগী সালেহা খাতুনের কাছ থেকে ১৭০০ টাকা নেন। কিন্তু এরপর তিন মাস পার হয়ে গেলেও ওই ইউপি সদস্য বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেননি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে সোমবার সালেহা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

তবে ইউপি সদস্য আলেয়া খাতুন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে লিখিত অভিযোগটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *