অভাবে বিক্রিত সন্তান ফিরে পাওয়া সেই মাকে অটোরিকশা দিলেন ওসি

ঢাকার ধামরাইয়ে অভাবের তাড়নায় বিক্রিত সন্তান ফিরে পাওয়া সেই নাজমার পাশে দাঁড়িয়েছে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা। আজ শুক্রবার নাজমার হাতে তিনি একটি অটোরিকশা তুলে দেন। যার মূল্য ৮৭ হাজার টাকা। এই রিকশা ভাড়া দিয়ে নাজমা প্রতিদিন তিন শ টাকা পাবেন এ ব্যবস্থাও করে দেন অফিসার ইনচার্জ।

এ টাকা দিয়েই নাজমার চার সদস্যের সংসার চালাতে পারবে। কিছুটা হলেও নামজা তার দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখা সুযোগ পেয়েছে। তবে বন্যার কারণে ধামরাইয়ের অধিকাংশ রাস্তার কিছু কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে পাশাপাশি ভেঙেও গেছে। ফলে আপাতত রিকশা চালানো অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।

আপাতত নাজমার সংসার চালানোর সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রতিদিনের আয়ের একটি পরিকল্পনা করেন ওসি দীপক চন্দ্র সাহা। তার পরিকল্পনার বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করেন এক শিল্পপতির সঙ্গে। নাজমার অভাবের কথা শুনে একটি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসির কথায় রাজি হয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিল্পপতি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি একটি ইঞ্জিন চালিত অটোরিকশা কিনে দেন।

নাজমা অটো রিকশাটি পেয়ে বেশ খুশি হয়েছেন। তিনি বলেন, ওসি স্যার আমার সংসার চালানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি ওসি স্যারের জন্য দোয়া করি তিনি যেন সব সময়ই অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, নাজমা আমাকে জানিয়েছিল অভাবের তাড়নায় নাজমা তার নবজাতক ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বিক্রিত সন্তানকে উদ্ধার করে তার কোলে ফিরিয়ে দিয়েছি গত ২৮ জুন। নাজমার অভাবের কথা শুনে তাকে একটি রিকশা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি মাত্র। তিনি বলেন, ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব।

গত ২৬ জুন নবজাতক ছেলে সন্তানকে মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে। বিক্রির বিষয়টি কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয় গত ২৭ জুন। এরপর সেই বিক্রিত নবজাতককে উদ্ধার করে নাজমার কোলে তুলে দেন ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা।

উল্লেখ্য, সাত বছরের এক মেয়ে ও পাঁচ বছরের এক ছেলে এবং স্ত্রী নামজাকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে সাইকেল মেকার স্বামী বাবুল হোসেন হার্ট এ্যাটাকে মারা যান এপ্রিল মাসে। এর চার দিন আগে মারা যান নাজমার বাবা দিনমজুর বৃদ্ধ আক্কাস আলী ও এরও সাত মাস আগে মারা যান মা। পরিবার পরিজন নিয়ে নাজমা ভাড়া থাকতেন সূতিপাড়া ইউনিয়নের ভাটারখোলা গুচ্ছগ্রামে জাহাঙ্গীর আলমের নামে বরাদ্দকৃত ঘরে। এখনো সেখানেই ভাড়া থাকেন তিনি।

স্বামী ও বাবা-মাকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নাজমা। এর মধ্যে ২৬ জুন এক পুত্র সন্তান জন্ম দেন তিনি। অভাবের তাড়নায় নবজাতককে বিক্রি করে দিয়েছিলেন নাজমা।

27140cookie-checkঅভাবে বিক্রিত সন্তান ফিরে পাওয়া সেই মাকে অটোরিকশা দিলেন ওসি

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *