একই পরিবারে কর্মহীন বাবার ৩ সন্তান প্রতিবন্ধী, অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

জন্মের পর হতে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করলেও অস্বাভাবিকভাবে ১৪/১৫ বছর বয়স হলেই ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধী হয়ে যায় কর্মহীন বাবা মো. সুলতান আলীর (৬৫) তিন সন্তান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ টিকরামপুর মহল্লার সুলতান, এই প্রতিবন্ধী ৩ সন্তানের ভরণপোষণ ও চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন এলাকাবাসীর উপর। ভিক্ষা করে কোন মতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছে এই পরিবারটি। একে তো নিজেই সড়ক দুর্ঘটনায় অক্ষম হয়ে কোন কাজ করতে পারেন না, তার উপর তিন সন্তানের এই প্রতিবন্ধীতা সুলতানের জন্য মরার উপর ঘা। সুলতানের প্রতিবন্ধী ৩ সন্তান রুবেল আলী(২৭), মাউনজেরা খাতুন(২৪) ও মোহাম্মদ আলী(২১) অন্য কারো সহায়তা ছাড়া বিছানা থেকে উঠতেও পারে না। এমনকি কথাও বলতে পারেন না। অথচ রুবেল আলী ১৪ বছর বয়স হওয়ার আগে সব কাজ করতে পারতেন, সকলের সাথে কথাও বলতেন খুব স্বাভাবিকভাবে। শুধুমাত্র রুবেল আধো আধো কথা বলতে পারলেও, মাউনজেরা ও মোহাম্মদ আলীর মুখে নেই কোন শব্দ। ৩ জনের মধ্যে একজনেরই রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা।

প্রতিবন্ধী এই তিন সন্তানের কর্মহীন বাবা ৬ সন্তানের জনক সুলতান আলী জানান, জন্মের পর থেকে সবাই সুস্থ ছিলো। কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই ১৪/১৫ বছর হলেই প্রথমে পা ফুলে যায়। পরে ধীরে ধীরে পায়ে আর কোন শক্তি থাকে না এবং কাজও করে না। এমনকি কথা বলাও বন্ধ হয়ে যায়। ডাক্তার, কবিরাজ সবই করেছি, কিন্তু কাজ হয়নি। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে ও এমনকি রাজশাহী পর্যন্ত নিয়েও যেতে পারছেন না, বলেও জানান তিনি।

কান্নাজড়িত কন্ঠে সুলতানের স্ত্রী নুরপেসন বেগম বলেন, গত ১০-১২ বছর থেকে এভাবেই দিন পার করছি। খুবই সমস্যা হচ্ছে সংসার চালাতে। অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হয়, সেটাও কিনতে পারি না। প্রতিবেশীদের দেয়া সহযোগিতার উপর নির্ভর করেই থাকতে হয়।

প্রতিবন্ধী ৩ সহোদরের বোন মোসা. সালমা বলেন, মা ৩ ভাই-বোনের দেখাশোনা করে। বৃদ্ধ মানুষ, তার যেকোন সময় কিছু হয়ে গেলে কি হবে আল্লাহই জানে। আমাদের পাশে এসে সরকার বা অন্য কেউ দাঁড়ালে খুবই উপকৃত হতো আমাদের পরিবারটি।

প্রতিবেশী মোসা. মেরিনা, মো. নাজমুল হোসেন, মাজহারুল ইসলাম, মাইনুল ইসলাম জানান, তারা সবাই সুস্থ ছিলো। কিন্তু অজানা কারনে ১৪/১৫ বছর বয়স হলেই সবাই অসুস্থ হয়ে যায়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে এভাবেই পড়ে আছে। কোন বিত্তবান ব্যক্তি বা সরকার এগিয়ে আসলে তারা সকলেই ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবন।

এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফোন না রিসিভ করায়, তার বাড়িতে গেলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে নারাজ। তিনি জানান, আমি কোন কথা বলবো না এসব বিষয়ে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোসা. উম্মে কুলসুম বলেন, আমরা পরিবারটির এই দুরাবস্থার বিষয়ে অবগত। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের বরাদ্দ হতে পরিবারটির সকল সদস্যদের ভাতার আওতায় নিয়ে আসার৷ এছাড়াও খুব শীগ্রই তাদেরকে নতুন হুইলচেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *