৫ মাস পর খুলছে মেঘলা-নীলাচলসহ বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন স্থান

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘ পাঁচ মাস পর খুলতে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় বান্দরবানের পর্যটন শিল্প খাত। ১৫ আগস্টের পর বান্দরবানের সবগুলো দর্শনীয় পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউজ খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

পাঁচ মাস বন্ধ থাকা পর্যটনশিল্প নির্ভর পাহাড়ের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ইতিমধ্যে খুলে দেয়ার ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ধোয়ামোছার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফিরতে শুরু করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরাও।

প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মার্চ থেকে বান্দরবান জেলার শতাধিক ছোট-বড় আবাসিক হোটেলে, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউজ বন্ধ রয়েছে।

দর্শনীয় স্থান মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, নীলগিরি, প্রান্তিক লেক, স্বর্ণমন্দির, নীলদিগন্ত, বগালেক, ন্যাচারাল পার্কসহ সবগুলো পর্যটন স্পট বন্ধ রয়েছে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হস্তশিল্প, স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী বৈচিত্র্যময় কোমর তাঁতের পোষাক-কাপড়ের ব্যবসাও বন্ধ ছিল।

বান্দরবান আবাসিক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যটনের সঙ্গে এই অঞ্চলে সার্বিক অর্থনীতি জড়িত। শুধুমাত্র আবাসিক হোটেল, মোটেল নয়। এই অঞ্চলের সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যও পর্যটক নির্ভর। ৫ মাস সবকিছু বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ। তবে পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেলগুলো খুলে দেয়ার ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মধ্যে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অর্থনীতির চাকাটা ঘুরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে সবকিছু পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে লেগে গেছেন সবাই। কিন্তু অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হয়েছে সেটি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। সামগ্রিকভাবে বান্দরবান জেলায় পাঁচ মাসে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকা রেষ্টুরেন্টগুলো খুলে দিলেও পর্যটক না থাকায় বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। মূলত এই অঞ্চলের সবগুলো ব্যবসা বাণিজ্য পর্যটক-নির্ভর। ১৫ আগস্টের পর পর্যটন স্পটগুলো এবং আবাসিক হোটেল খুলে দেয়ার কথা শুনছি। সবকিছু খুলে দিলে হয়তো কিছুটা নিঃশ্বাস নিতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

বার্মিজ মার্কেটের ঐতিহ্যবাহী পোষাক ব্যবসায়ী দিপীকা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বার্মিজ মার্কেটগুলো খুললেও পর্যটক না থাকায় কয়েকটি মার্কেটের শতাধিক দোকানে কোনো বেচা-কেনা নেই। পর্যটকের আগমন হলে বাড়বে বেচা-বিক্রি। পর্যটন শিল্পের দুয়ার খুললে জমে উঠবে ব্যবসা বাণিজ্য এই প্রত্যাশায় আছি।

এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম বলেন, ভ্রমণপিপাসু মানুষদের জন্য সবগুলো পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেল খুলে দেয়ার নীতিগত একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু কখন থেকে সবকিছু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। তবে আগামী ১৫ আগস্টের পর যে কোনো দিন পর্যটন শিল্পের দুয়ার খুলে দেয়া হবে।

35220cookie-check৫ মাস পর খুলছে মেঘলা-নীলাচলসহ বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন স্থান

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *