ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেলো কলেজ ছাত্র একরামুলের লাশ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের হাওরে বেড়াতে গিয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া কলেজ ছাত্র একরামুল ইসলাম (২০) এর মরদেহ দু’দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হাসানপুর সেতু সংলগ্ন হাওর থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে হাওরে বেড়ানোর সময় গোসল করতে গিয়ে চাচাতো ভাই কলেজ শিক্ষক মো. হাদিউর রহমান রুবেল (৩৫) ও কলেজ ছাত্র একরাম নিখোঁজ হন।

ওই দিন সন্ধ্যার পর নৌ-পুলিশ পানি থেকে কলেজ শিক্ষক হাদিউরের লাশ উদ্ধার করলেও খুঁজে পায়নি একরামকে। রোববার (৯ আগস্ট) সারাদিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি ডুবুরিরা।

নিহত একরাম জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপক্ষিয়া গ্রামের কাইমুল ইসলামের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলেন।

আর হাদিউর রহমান কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপক্ষিয়া গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর সরকারি মহিলা কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

চামটাঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. নাজমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত দুই দিন হাওরে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও একরামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে হাসানপুর সেতুর পাশে হাওরে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশটি পাওয়া যায়।

তিনি জানান, শনিবার (৮ আগস্ট) কলেজ শিক্ষক হাদিউর ও কলেজ ছাত্র একরামুলসহ ১৬জন হাওরে বেড়াতে যান। তাঁরা সবাই উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের বালিখলা থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে উপজেলার সীমান্তবর্তী হাসানপুর সেতুতে যান।

সেখানে সেতুর পাশের হাওরে গোসল করতে নামেন তাঁরা। সবার সঙ্গে ওই দুজনও পানিতে নামেন। তবে হাওরের ঢেউ ও স্রোতের টানে এই দুজন নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে সন্ধ্যার পরে চামটা ঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও করিমগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হাদিউর রহমান রুবেলকে হাওরের পানিতে থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তবে একরামকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, একরামের মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে হাদিউর রহমানের লাশও হস্তান্তর করা হয়। এ দুজনের মৃত্যু বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হচ্ছে।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *