কাল থেকে দুপুর আড়াইটার ‘করোনা বুলেটিন’ আর শোনা যাবে না

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শেষবারের মতো প্রচারিত হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে শেষ ২৪ ঘণ্টার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির আপডেট জানানো হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে, পরিস্থিতি ভালোর দিকে থাকায় তারা বুলেটিন বন্ধ করতে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন আয়োজন করে আসছে এপ্রিল থেকে। ১১ আগস্ট এই বুলেটিনের চার মাস পূর্ণ হবে। এদিনই শেষবারের মতো স্বাস্থ্য বুলেটিন পাঠ করবেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

সূত্র বলছে, ১২ আগস্ট থেকে স্বাস্থ্য বুলেটিন বন্ধ হয়ে এর পরিবর্তে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে গণমাধ্যমকে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাস ইস্যুতে প্রথম ব্রিফিং আয়োজন করে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিজেই ব্রিফিং করতেন। ওই সময় দিনের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে ব্রিফিং হতো না। কোনোদিন দুপুর ১২টায়, কোনোদিন দুপুর ২টায়, কোনোদিন বিকেল সাড়ে ৩টা বা ৪টাতেও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরে আইইডিসিআরের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরও সরাসরি ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়। মার্চের শেষের দিকে ডা. ফ্লোরার পরিবর্তে নিয়মিত ব্রিফিং পরিচালনা করতে থাকেন অধিদফতরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান। বিকেল ৩টায় এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হলেও পরে দুপুর আড়াইটায় ব্রিফিংয়ের সময় চূড়ান্ত করে দেয় অধিদফতর।

এরপর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অনলাইনে ব্রিফিং পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওই সময় সাংবাদিকরা জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে সাংবাদিকদের যুক্ত হওয়ার পর্বটি বাদ দিয়ে ‘ব্রিফিং’কে ‘বুলেটিন’ আকারে উপস্থাপন করতে শুরু করে অধিদফতর। প্রশ্ন উঠেছিল, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন এড়াতেই অধিদফতর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কি না।

প্রশ্নোত্তর পর্ব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও প্রতিদিন দুপুর আড়াইটার এই সময়টিতে দেশের সব গণমাধ্যমের চোখ থাকত স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনলাইন বুলেটিনে। দেশের মানুষেরও অন্যতম আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই সময়টি। ডা. নাসিমা সুলতানাও পরিণত হয়েছিলেন চেনামুখে। প্রতিদিন কী পরিমাণ মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন কিংবা করোনায় মারা যাচ্ছেন কিংবা সুস্থ হয়ে উঠছেন— হালনাগাদ সেই তথ্যটি জানার আগ্রহ ছিল সবারই। এবারে সেই বুলেটিনটিও বন্ধ করে দিতে চলেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *