সিসি ক্যামেরায় দেখা গেল কিভাবে পালালো কয়েদি বকর

কয়েদি আবু বকর সিদ্দিক কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লকআপের পর থেকে খোঁজাখুঁজি করে তাকে কারাগারের ভেতর পাওয়া যায়নি।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আবু বকর সিদ্দিক ১৮ ফুট উঁচু সীমানা দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো কারাগারের দেয়াল টপকাতে তিনি মই ব্যবহার করেন। অথচ কারাগারটির চার কোনায় অনেক উঁচুতে স্থাপিত পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে সর্বক্ষণ রয়েছে নিরাপত্তা প্রহরী। ভেতরের উন্মুক্ত স্থানে কে কী করছে তা সহজেই চোখে পড়ে তাদের। কিন্তু সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেছেন আবু বকর। বুধবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত তাকে খুঁজে পায়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, আবু বকর সিদ্দিক ২০১১ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফাঁসির আসামি হিসেবে কাশিমপুর কারাগারে আসেন। ২০১২ সালের ২৭ জুলাই তার সাজা সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

কারা কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল কারাগারটি বড় হওয়ায় কারাগারের কোথাও আবু বকর সিদ্দিক লুকিয়ে থাকতে পারেন। এর আগে ২০১৫ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায়ও তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। তখন তিনি সেল এলাকায় সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। পরদিন তাকে সেই ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, তদন্ত কমিটি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থেকে বকরের পালিয়ে যাওয়ার পুরো চিত্র পেয়েছে। এরমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১২ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কারা সূত্র জানায়, কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন কাজ করার জন্য ল্যাডার (মই) রয়েছে। আবু বকর সেই মই দিয়ে অনেকবার বিদ্যুতের কাজ করেছেন। ঘটনার দিন দুপুরের পর তিনি মইটি নিয়ে অনেকের চোখের সামনে দিয়েই সীমানা প্রাচীরের দিকে যান। তখন তিনি কোনো কাজে যাচ্ছেন ভেবে কেউ কিছু বলেনি। তাকে পাহারাও দেননি কোনো কারারক্ষী। এই সুযোগে মই লাগিয়ে সহজেই তিনি উঠে যান দেয়ালের ওপর। পরে লাফ দিয়ে বাইরের দিকে নেমে পালিয়েও যান। সন্ধ্যায় লকআপ করার সময় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

43590cookie-checkসিসি ক্যামেরায় দেখা গেল কিভাবে পালালো কয়েদি বকর

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *