শিপ্রার ভিডিও বার্তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহার সহযোগী স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথের ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মেজর সিনহার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এনিয়ে ফেসবুকে চলছে তুমুল বিতর্ক।

মোঃ সাগর লিখেছেন, ‘‘সিপ্রাকে আবারও আইনের আওতায় এনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তার চোখে মুখে বেঈমানির ছাপ। যে মানুষ টা মারা গেলো তার প্রতি কোনই সহানুভুতি নেই, সে একজন মেজরকে নাম ধরে বলছে? মেজর সিনহাকে এখন ছোট করে কথা বলছে এই সিপ্রা। সে এখন নিজেকে সেলিব্রিটি প্রচারে ব্যস্ত। আফসোস,,আফসোস,,,,আফসোস,,,,,,সত্য কখনই চাপা থাকে না মনে রাখিস বেঈমান,,আল্লাহ অবস্যই এর সঠিক বিচার করবেন। মেজর সিনহার মায়ের চোখের পানি আর দেশের মানুষের দোয়া আল্লাহ্ অবস্যই কবুল করবেন। মেজর সিনহা আমাদের সকলের হৃদয়ে বেচে থাকবেন আজীবন। আল্লাহ্ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক। আমিন।’’

মোহাম্মাদ আব্দুল কাইয়ুম লিখেছেন, ‘‘জামিনের পর পরই যখন শিপ্রা মিডিয়ার সামনে কথা বলছিল তখন স্পষ্টতই মনে হচ্ছিল ঘটনাটি সে এড়িয়ে যেতে চায় কিংবা ঘটনাটি তার কাছে কোন গুরুত্বই পায়নি।তাকে একদম শান্ত মনে হচ্ছিল এবং কথা গুছিয়ে বলার চেষ্টা করছিল।অপরদিকে সিফাতকে নার্ভাস ও কনফিউজড মনে হচ্ছিল।’’

মহিউদ্দিন মুহাম্মদ লিখেছেন, ‘‘সিপ্রা মেয়েটার আচরন সন্দেহজনক। তার বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবি গুলো দেখে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রের জাল অনেক আগে থেকে এবং গভিরে বিস্তৃত ছিল।’’

মোহাম্মাদ এইচআর জিসান লিখেছেন, ‘‘দেশের গোয়েন্দা সংস্থা যদি একটি খুনের সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে না পারে, আদালত যদি সে খুনের বিচার করতে না পারে, তাহলে জনগনের টাকায় এসব কেন চালাচ্ছে? সবগুলো ঘটনার পর দেখি তামাশা শুরু হয়। কেন এমন হবে?’’

মোঃ মাফফুজ রহমান লিখেছেন, ‘‘তার কথা বার্তায় সন্দেহজনক মনে হচ্ছে, এত দিন একসাথে কাজ করা মানুষটাকে নিয়ে তেমন কিছুই বলছে না, তার মাঝে কোন শোক নেই। তার গতি বিধি ভাল দেখাচ্ছে না। সত্য উদঘাটনের জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল তথা ল্যাপটপ যাচাই করা দরকার।’’

শাহজালাল সরকার লিখেছেন, ‘‘শিপ্রার সেই ৮ মিনিটের ভিডিওতে সিনহার খুনের বিচার চাওয়ার আবেগ/প্রত্যয় ছিলোনা। ছিলো তার নিজের/চ্যানেলের ব্র্যান্ডিং। তাছাড়া সিপ্রার কর্মকান্ডগুলো রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’’

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় হত্যা ও মাদক আইনে এবং রামু থানায় মাদক আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় নিহত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা শাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেব নাথকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৬ আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ ৭ আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *