এবার জার্মানীতে হাঁটু দিয়ে পুলিশি নির্যাতন

করোনাভাইরাসের মধ্যেই পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মতোই হাঁটু দিয়ে ঘাড় চেপে ধরে নির্যাতনের অভিযোগ জার্মান পুলিশের বিরুদ্ধে। আর সামজিক মাধ্যমে ডুসেলডর্ফের এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আন্দোলন। খবর ডয়েচে ভেলের।

ভিডিওতে দেখা যায় এক পুলিশ অফিসার এক ব্যক্তির ঘাড় হাঁটু দিয়ে চেপে রেখেছেন। অ্যামেরিকার মিনেসোটায় ঠিক এ ভাবেই জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড় চেপে রেখেছিল পুলিশ। মৃত্যু হয়েছিল ফ্লয়েডের। এ ঘটনায় প্রতিবাদ শুরু হয়েছে জার্মানিতেও। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিষয়টিকে মোটেই হালকা ভাবে নেওয়া হচ্ছে না। কেন ওই অফিসার এমন কাজ করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অন্য থানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই অফিসার দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে ওল্ড টাউনের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ফোন যায় তাদের কাছে। সেখানে কিছু ব্যক্তি দোকানের বাইরে ঝামেলা করছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর পরে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি আচমকাই পুলিশের কাজে বাধা দিতে শুরু করেন। যদিও তাঁর সঙ্গে পুলিশের কোনও কথা কাটাকাটি হয়নি। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায়, ওই ব্যক্তিকে প্রথমে সতর্ক করে পুলিশ। কিন্তু তারপরেও একই কাজ করায় ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়। আটক করার সময়েই তাঁকে মাটিতে ফেলে ঘাড়ে হাঁটু তুলে দেন এক পুলিশ অফিসার।

এই ঘটনা বহু মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। অনেকেই ভিডিও তুলেছেন। ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও-তে দেখা যায় জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনার মতোই এক পুলিশ অফিসার ওই ব্যক্তির ঘাড় হাঁটু দিয়ে চেপে রেখেছেন। আশপাশ থেকে অনেকেই চেঁচিয়ে তাঁকে হাঁটু সরানোর আবেদন জানাচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ অফিসার কারও কথা শুনছেন না। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ইতোমধ্যে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *