কুকুরের তাড়া খেয়ে ৬ বছর পর বাড়ি ফিরল ১৩ বছরের কিশোরী

সাত বছরের ছোট মেয়েটি তার এক আত্মীয় বাড়ি থাকতে গিয়েছিল। রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কাউকে কিছু না বলেই দরজা খুলে বেরিয়ে এসেছিল সে। সেই রাতেই বদলে গেল তার চেনাজানা জীবনের ছবিটা। ছোট মেয়েটিকে একলা দেখে তেড়ে এসেছিল কয়েকটা রাস্তার কুকুর। কুকুরের কামড় থেকে বাঁচতে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালায় সে। একটু পরে কুকুরের দল পিছু ছাড়ালেও রাতের অন্ধকারে সে আর পথ খুঁজে পায়নি।

 

ঘটনাটি ভারতের গুজরাতের ভদোদরার আলতাদারা এলাকার। ঘটনার দিন কুকুরের তাড়া খেয়ে অনেক দূরে গিয়ে কোন রাস্তা দিয়ে গেলে তার সেই আত্মীয়ের বাড়ি ফিরে যাওয়া যাবে, তা বুঝে উঠেতে পারেনি ছোট মেয়েটি। ২০১৪ সালের সেই ঘটনার পর কেটে গেছে ছয় বছর। সাত বছরের সেই মেয়েটির বয়স এখন ১৩। এতদিনে ভাগ্য আবার সুপ্রসন্ন হয়েছে তার প্রতি। দাহোদের ধানপুরের বাসিন্দা সেই মেয়েটি অবশেষে খুঁজে পেয়েছে তার বাবা-মাকে।

শেষ তিন বছর এই সারলার কাছেই ছিল এই মেয়েটি। হারিয়ে যাওয়ার পর প্রথম তিন বছর সে কোথায় ছিল, কী ভাবে ছিল, তার কোনও স্মৃতি মেয়েটির মনে অবশিষ্ট নেই। সারলা তাকে বারবার বাবা-মার কথা জিজ্ঞেস করলেও কিছুই বলতে পারেনি সে। হঠাৎ একদিন গল্প করতে করতে সে সারলাকে এমন কিছু কথা বলে যাতে সে কোন এলাকায় থাকত, তা কিছুটা আন্দাজ করতে পারেন সারলা। তারপর সেখানে গিয়ে কারোর বাড়ির মেয়ে হারিয়ে গিয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে খোঁজ করেন তিনি। এই ভাবেই মেয়েটির বাবা-মায়ের দেখা পান তিনি।

এদিকে, মেয়েটির সঙ্গে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেই মনে করছে পুলিশ। এতদিন পরে মেয়েকে ফিরে পেয়ে আত্মহারা তাঁর বাবা মা। ছয় বছর আগে হঠাত্‍ একদিন রাতে হারিয়ে যাওয়া মেয়ের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তাঁরা। এই ভাবে আশাতীত ভাবে মেয়েকে ফিরে পেয়ে সারলাকে কী ভাবে ধন্যবাদ জানাবেন, তা বুঝেই উঠে পারছেন না তাঁরা। সারলার জন্যই শেষ পর্যন্ত মেয়েকে ফিরে পেলেন তাঁরা। সূত্র : এই সময়।

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *