শিবগঞ্জের মর্দানা গ্রামে হামলা, লুটপাট মারধর-পক্ষ প্রতিপক্ষ দ্বন্দ্বে আতঙ্কে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৯নং ওয়ার্ড মর্দনা গ্রামে সম্প্রতি গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে বোমা বিস্ফোরণে সালাম গ্রুপের সাইফুদ্দিন সফু নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার প্রধান আসামী ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খায়রুল আলম জেম।

এ মামলায় এরই মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামী জেমসহ তার লোকজন কে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ।

গ্রাম্য রাজনীতি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ফাঁসাতে নানা রকম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হামলা মামলার জন্য গ্রামটির মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন। সরেজমিনে ঐ এলাকায় এমনটাই চিত্র দেখতে পাওয়া গেছে।

সফু মারা যাবার পর দু দফা মর্দনা গ্রামে প্রতিপক্ষের ১০টি ঘরবাড়িতে হামলা চালায় দূর্বৃত্তরা। প্রথম হামলায় ৬ জন আহত হয়। হামলায় আহত হয়, চকপাড়ার নান্টুর ছেলে সাইফুল, আইয়ুব বাজারের কাসিমের ছেলে রুবেল, মিয়াপাড়ার মসি মন্ডলের ছেলে সজল, সাইফুল, এডুর ছেলে মোসাব্বির ও নয়াটোলার বাক্কারের ছেলে সাহেব।

প্রধান আসামি জেমসহ তার লোকজন এখনও পলাতক রয়েছে। এই সুযোগে আসামীদের আত্মীয়-স্বজনদের উপর হামলা ও হুমকি দেয়া হচ্ছে। এর আগে দুই দফা হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

অভিযোগে জানা গেছে, দূর্বৃত্তরা নয়াটোলা গ্রামের মর্তুজী, সাইফুল, সাইদুর আলী, আতাবুর, মতিবুর এবং পুকুরটোলা গ্রামের জেন্টু, আব্দুস সত্তার ও এরফানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙ্গচুর চালিয়ে গরু-ছাগল লুটসহ ৩টি পরিবারের গরু বিক্রির ৫লাখ ১০হাজার টাকা নিয়ে গেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মরদানায় আধিপত্য কেন্দ্র করে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সালামের সাথে বর্তমান কাউন্সিলর খায়রুল আলম জেমের দ্বন্দ্ব চলছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণে ও ধারালো অস্ত্রর আঘাতে সালাম গ্রুপের সাইফুদ্দিনের মৃত্যু হয়।

এদিকে কাউন্সিলর ও হত্যা মামলার প্রধান আসামী খায়রুল আলম জেম এর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কর্মী সমর্থক জানিয়েছেন, গ্রাম্য রাজনীতি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেমকে ফাঁসানো হয়েছে। সাইফুদ্দিন সফু হত্যাকান্ডের সময় জেম সেখানে ছিলো না বলেও জানান তারা।

তারা আরও জানান, নিহত সাইফুদ্দিন সফুর নামে হত্যা, বিস্ফোরকসহ ১১ টি মামলার আসামী ছিল। তার বড় ভাই মৃত তাইফুর রহমান নিজ বাড়ির ছাদে বোমা বানানোর সময় নিহত হয়। এ ঘটনার সময়ও প্রতিপক্ষে ফাঁসাতে ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেমকে আসামী করা হয়। মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন আছে।

জেম এর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কর্মী সমর্থক আরও জানান, এক প্রতিবন্ধী জান্নাতীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলাতেও প্রতিপক্ষে ফাঁসাতে ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেমকে আসামী করার চেষ্টা করা হয়। এ মামলাটিও সিআইডিতে তদন্তাধীন আছে।

তারা আরও জানান, সাইফুদ্দিন সফুর মৃত্যুর পর খায়রুল আলম জেম সমর্থকদের ঘরবাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায় ২ দফা। এ ঘটনায় কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ জেম সমর্থক সাইফুলকে মর্দানা ক্লাবমোড়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। লুটপাট ও মারধরের ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় এজাহার দেয়া হয়েছে কিন্তু এখনও সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।

খায়রুল আলম জেম এর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কর্মী সমর্থকদের দাবী, পুলিশ সুপার, ওসি যেন সঠিক ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জেনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, মর্দানা গ্রামের হত্যা মামলার বেশ কিছু আসামী ধরা পড়েছে। বাকি আসামীদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে। কাউন্সিলর জেম সমর্থকদের উপর হামলা, ভাংচুর, মারধরের বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। অবশ্যই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

72030cookie-checkশিবগঞ্জের মর্দানা গ্রামে হামলা, লুটপাট মারধর-পক্ষ প্রতিপক্ষ দ্বন্দ্বে আতঙ্কে গ্রামবাসী

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *