রশিতে বেঁধে মা-মেয়েকে নির্যাতনকারী সেই চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মা-মেয়েকে রশিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের সেই আলোচিত চেয়ারম্যান মো. মিরানুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঘটনার ভুক্তভোগী মা পারভীন আক্তার চকরিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় তাকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

এই মামলার আসামিরা হলেন-চকরিয়া উপজেলা হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.মিরানুল ইসলাম, হারবাং বৃন্দাবনখিল এলাকার জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২৮), মাস্টার মাহমুদুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯) ও এমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩২)। এতে অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী পারভীন আক্তার দাবি করেন, ‘গত শুক্রবার একটি সিএনজি নিয়ে আমি ও আমার দুই মেয়ে সেলিনা আক্তার, রোজিনা আক্তার ও ছেলে এমরান এবং তার বন্ধু ছুট্টুসহ চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ পূর্ব হাইদারনাশির আমার ছোট মেয়ের শ্বশুড়বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। আমাদের বহনকারী সিএনজিটি হারবাং বৃন্দাবনখিল লালব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলে মোট ছয়জন লোক আমাদের পিছু নেয়। পরে আমাদের গাড়ির চালক ভয় পেয়ে হারবাং স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে চলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহী ছয়জনসহ আরও বেশ কয়েকজন আমাদের সিএনজিটি আটকে ফেলে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। ইতিমধ্যে ধাওয়া করা লোকজন গরু চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের মারধর শুরু করে। এ সময় আসামিরা আমাদের কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের কানের দুল ও গলার চেইন এবং চারটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনসহ আসামিরা আমাদের কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় আবারও আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে প্রথমে চেয়ার দিয়ে এবং পরে একটি লাঠি দিয়ে মারতে থাকেন। পরে পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।’

পারভীন আক্তার দাবি করেন, ‘এজাহারে নামীয় আসামি ও অজ্ঞাত আসামিরা আমাদের হেয় করার জন্য ও মানহানি করার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়া ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের সহকারী পরিচালক মো.শাহ পরাণ বলেন, ‘এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এজন্য আমরা একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি।’

চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ আইনজীবি অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ এই মামলাটি পরিচালনা করবেন বলেও জানান তিনি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হারবাংয়ে মা-মেয়েসহ পাঁচনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দেন। ওই এজাহারটি মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছেন। এই মামলার অন্যতম আসামি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।’

72500cookie-checkরশিতে বেঁধে মা-মেয়েকে নির্যাতনকারী সেই চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *