রাজশাহীর মোহনপুরে মৌগাছী বাজারে দ্রুত নৈশপ্রহরী নিয়োগের দাবি দোকান মালিকদের

রাজশাহীর মোহনপুর থানার মৌগাছী বাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি বড় বাজার। মোহনপুর উপজেলার দুটি হাট বৃহৎ। তার একটি হলো কেশরহাট এবং দ্বিতীয়টি হলো মৌগাছি হাট। কেশরহাটের পরেই এ মৌগাছী বাজারে সর্বোচ্চ দোকানপাট (ছোট-বড় সব মিলিয়ে ২২৮টা দোকানপাট) আছে এবং ক্রয়-বিক্রয় হয়। পান, ধান, আলু পাট সহ সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হয় এই হাটে। বিশেষ করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পাশাপাশি পান এবং পান বরজের সকল প্রয়োজনীয় সামগ্রী এ হাটে ক্রয়-বিক্রয় করা হয় প্রায় প্রতিদিন। সপ্তাহে রবিবার, সোমবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার  চারদিন হল হাটবার। এ হাটের মাধ্যমে অত্র এলাকার অন্তত কয়েক হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব পায় সরকার।

কিন্তু চরম হতাশার ও দুঃখজনক কথা হলো এ হাটে বিগত ৭/৮ বছর যাবৎ নেই কোন নৈশপ্রহরী। হরহামেশাই ছিচকে চোরেরা চুরি করে এ হাটে। আবার মাঝে-মধ্যে বড় ধরনের চুরির ঘটনাও ঘটে। যেমন মোহনপুর  থানাধীন বেলগাছী গ্রামের আলহাজ্ব মোঃ আকবর আলী মাস্টারের ছেলে মোঃ ইকবাল হোসেন (৩৮) এর মৌগাছি বাজারে ‘মেসার্স ইকবাল হার্ডওয়ার এন্ড ইলেকট্রনিক্স’ দোকান হতে ২১/০৮/২০২০ইং তারিখ দিবাগত রাতে বিভিন্ন প্রকার জি আই তার, বিভিন্ন প্রকার লোহার কাটা, ইসক্রুপ চাকতি সহ ছোট-বড় তালা, ইলেকট্রিক কেবল, বিভিন্ন প্রকার রং এর কৌটা সহ বিভিন্ন প্রকার হার্ডওয়ার সামগ্রী চুরি হয়।

ওই একই রাত্রে মোগাছী বাজারের চাল ব্যবসায়ী মোঃ হারুন-অর-রশিদ(৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল জব্বার, সাং একবারপুর। তার দোকান হতে নগদ কিছু টাকা সহ বাঁশমতি চাল, কাটারী ভোগ চাল, সুইট সাফি সুপার মিনিকেট চাল, মাহি সুপার মিনিকেট চাল, আটাইশ ধানের চাল সহ বিভিন্ন প্রকার চাল চুরি হয়।

মৌগাছী এ বাজারে বজরপুর গ্রামের পিতা মৃত তাহারুল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমানের  সবচেয়ে বড় ‘বিগ বাজার’ দোকান আছে। যেখানে সকল প্রকার ইলেকট্রিক সামগ্রী সহ ফার্নিচার পাওয়া যায়। মোঃ আতিকুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে বলেন, বিগত ৭ থেকে ৮ বছর যাবৎ এই হাটে কোন প্রকার নৈশপ্রহরী রাখা হয় না। এ বিষয়ে অসংখ্যবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা হয়ে উঠে না। আপনারা দেখছেন, আমার দোকানে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল আছে। এই লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল রেখে বাসায় গিয়ে আমার ঘুম হয় না, চুরি হওয়ার ভয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। তাই এখন নিয়মিত দোকানেই থাকি। অপরদিকে মৌগাছি বাজারের প্রায় সকল দোকান মালিকরা কর্তৃপক্ষের নিকট খুব দ্রুতই মৌগাছী বাজারে নৈশপ্রহরী নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মৌগাছী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল-আমিন বিশ্বাসের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোহনপুর উপজেলায় মৌগাছী একটি দ্বিতীয় বৃহত্তম হাট। পূর্বে নিয়মিত এই হাটে নৈশপ্রহরী রাখা হতো কিন্তু বিগত ৭/৮ বছর যাবৎ দোকান মালিকরা আমাদের সহযোগিতা না করায় এই হাটে নৈশপ্রহরী রাখা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি খুব দ্রুত এই মৌগাছী হাটে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোস্তাক আহমেদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মোহনপুর থানা পুলিশ সবসময় মৌগাছী বাজারসহ মোহনপুর থানার সকল হাট বাজারে নিয়মিত টহল টিম রেখেছি। মৌগাছী বাজারে নৈশপ্রহরী রাখার জন্য কয়েকদফা চেষ্টা করেছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, দোকান মালিকরা আমাদের সহযোগিতা না করায় এটা হয়ে উঠেনি। তবে আমরা আগামী ০১/০৯/২০২০ইং তারিখে মৌগাছি বাজারে নৈশপ্রহরী নিয়োগের উদ্দোশ্যে এক জরুরী সভার আয়োজন করেছি এবং এই জরুরি সভায় হাট-মালিক সমিতির সকল সদস্য সহ সকল দোকান মালিকদের ডাকা হয়েছে। পহেলা সেপ্টেম্বরেই আমরা মৌগাছী বাজারে যে কয়জন নৈশপ্রহরী দরকার তা নিয়োগ দিব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

74011cookie-checkরাজশাহীর মোহনপুরে মৌগাছী বাজারে দ্রুত নৈশপ্রহরী নিয়োগের দাবি দোকান মালিকদের

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *