চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা উঠানোর অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের দুটি ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে রাস্তার কোন কাজ না করেই ৪ লক্ষাধিক টাকা উঠানোর অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ প্রকল্প দুটির সভাপতি ও বারোঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ০৯নং ওয়ার্ড সদস্য মো. সেমাজুল ইসলাম হারেজের বিরুদ্ধে। এনিয়ে বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের রাজশাহী উপ-পরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক, জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি সোমবার বিকেলেও লক্ষীপুর-মাস্টারপাড়া ও মোগড়পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মাস্টারপাড়ায় ধুলুর বাড়ি থেকে লতিবের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরন প্রকল্প দেখিয়ে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উঠিয়েছে ইউপি সদস্য সেমাজুল।

স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানায়, গত মেয়াদে জারমান আলী ফড়িং ইউপি সদস্য থাকাকালীন সময়েই রাস্তাটি হয়েছে। সেমাজুল ইউপি সদস্য হওয়ার পর হতে এখানে নতুন করে কোন রাস্তার কাজ হয়নি। এই প্রকল্পের নামে টাকা উঠানোর বিষয়টি জানতে পেরে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। সাবেক ইউপি সদস্য জারমাল আলী ফড়িং বলেন, আমি মেম্বার থাকার সময় ২০১৫ সালে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বাজেটে রাস্তাটি করে দেয়। অথচ এই রাস্তাটি দেখিয়ে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উঠিয়েছেন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য সেমাজুল ইসলাম। আমার সময়ে প্রকল্পটি ছিলো ধুলুর বাড়ি থেকে সাজাহানের বাড়ি পর্যন্ত, আর সেটিকেই ধুলুর বাড়ি থেকে লতিবের বাড়ি পর্যন্ত বলে টাকা উঠানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, লক্ষীপুর-মোগড়পাড়া এলাকার মানিক ডাক্তারের বাড়ি হতে মনি’র বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ঢালায় প্রকল্পের  এক-তৃতীয়াংশ কাজ না করেই ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই লক্ষ টাকা উঠায় ইউপি সদস্য সেমাজুল। প্রকল্প দুটোরই ঠিকাদার ছিলো শ্রী সুরঞ্জিত কুমার দত্ত এবং দুটো প্রকল্পই উদ্বোধন করেন, বারোঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহা. আবুল খায়ের। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান মোহা. আবুল খায়েরের যোগসাজশেই এই অনিয়ম করেছেন ইউপি সদস্য সেমাজুল ইসলাম হারেজ। এবিষয়ে ইউপি সদস্য সেমাজুল ইসলাম হারেজ বলেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজ দুটিতে কোন অনিয়ম করা হয়নি। অন্যদিকে ঠিকাদার শ্রী সুরঞ্জিত কুমার দত্তের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যান মোহা. আবুল খায়ের বলেন, কাজের কোন সমস্যা নেয়। সবকিছু ঠিকঠাক আছে।

74041cookie-checkচাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা উঠানোর অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *