সৌদির আইন কার্যকর করতে প্রবাসীকে হত্যা করে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জামাল হোসেন নামে এক সৌদি প্রবাসীকে হত্যার দায় স্বীকার করে স্ত্রী ও দুই সন্তান আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবতাবুজ্জামান ও কাউছার আলমের পৃথক দুটি আদালত লোমহর্ষক জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে স্ত্রী শারমিন আক্তার ডলি (৫০) ছেলে তানভীর হাছান ডালিম (১৮) ও মেয়ে সামিয়া বেগমকে (২৭) কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি প্রবাসী জামাল হোসেনকে অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়া থাকার সন্দেহ করে আসছিল তার স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে কী করা যায়, এ নিয়ে ডলি তার ছেলেমেয়ের সঙ্গে পরামর্শও করতেন। গত বুধবার হত্যাকাণ্ডের রাতে জামাল হোসেন বাইরে থেকে ফিরে গোসল করেন। এতে স্ত্রী ও সন্তানদের মনে সন্দেহ দেখা দেয়।

তিনি বলেন, জামাল হোসেন যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন তার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু কনডম ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খুঁজে পায় তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। এরপর স্ত্রী শারমিন আক্তার ডলি ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে পরামর্শ করেন সৌদি আরবের আইনে পরকীয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তাই সৌদির আইন কার্যকর করতে জামাল হোসেনকেও মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের মা-মেয়ে ও ছেলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কথাবার্তার এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় জামাল হোসেনকে তাদের পারিবারিক আদালতে সৌদির আইনে মৃত্যুদণ্ড দেবেন। সিদ্ধান্ত মতে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় জামাল হোসেনের মাথায় প্রথমে স্ত্রী শারমিন আক্তার ডলি হাতুড়ি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন। এরপর একই স্থানে ছেলে তানভীর হাছান ডালিম ও মেয়ে সামিয়া বেগমও একাধিকবার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন।

ওসি বলেন, জামাল হোসেন নিথর হয়ে পড়লে স্ত্রী ডলি দুই পায়ে ধরেন ও ছেলেমেয়ে দুই হাতে ধরে টয়লেটে নিয়ে যায়। সেখানে ডলির নির্দেশে তার ছেলে ডালিম টয়লেটের কমোড ভেঙে ফেলেন। পরে আশপাশের লোকজনদের ডেকে এনে বলেন জামাল হোসেন স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

তিনি বলেন, হত্যার পর রক্তাক্ত অবস্থায় জামাল হোসেনের লাশ দাফনের চেষ্টা করা সময় অভিযান চালিয়ে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নিহতের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে গ্রেফতার করি। আর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল হোসেনকে হত্যার দায় স্বীকার করে তিনজনই। এরপর আদালতে তারা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

75440cookie-checkসৌদির আইন কার্যকর করতে প্রবাসীকে হত্যা করে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে!

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *