আদালতে জবানবন্দি দিচ্ছেন সিনহা হত্যা মামলার আসামি লিয়াকত

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় অবশেষে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন প্রধান অভিযুক্ত, পুলিশের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

তৃতীয় দফায় শুক্রবার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাকে রোববার বেলা ১২টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে আনা হয়।

মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেলা ২টা থেকে জবানবন্দি শুরু হয় বলে জানায় আদালতের এক সূত্র।

র‌্যাব সূত্র জানায়, বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে গত শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তৃতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক ও সিনহা হত্যার প্রধান অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়।

এর আগে, আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালসহ সাত পুলিশের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেই রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরও সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত সেদিন চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

ওই চারদিনের রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরও চারদিনের আবেদন করা হলে গত শুক্রবার আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে।

মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্য পৃথকভাবে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। যার কারণে এ তিন পুলিশ সদস্য কারাগারে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। পরে আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়। দুইজন ছাড়া সব আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এদিকে, গত শুক্রবার ওসি প্রদীপের জামিনের জন্য চট্টগ্রাম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এহেছানুল হক হেনার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি আইনজীবী প্রতিনিধি দল কক্সবাজার আদালতে হাজির হয়ে রিমান্ডের বিরোধিতা এবং জামিনের আবেদন করে। আলাদত সেই জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

এর একদিন পর মামলার প্রধান আসামি পরিদর্শক লিয়াকত স্বীকারোক্তমুলক জবানবন্দি দিচ্ছেন।

78580cookie-checkআদালতে জবানবন্দি দিচ্ছেন সিনহা হত্যা মামলার আসামি লিয়াকত

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *