কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাপের কামড়ে নিয়ে গেল বৈদ্যের কাছে,শেষে ফিরল লাশ হয়ে

আমিরুল ইসলাম রাশেদ, পেকুয়া প্রতিনিধি।

কক্সবাজারের মায়ের অজ্ঞতা ও বৈদ্যের প্রতারনায় শেষে লাশ হয়ে ফিরল শিক্ষার্থী তামিম ইকবাল (৮) প্রকাশ বাবু। বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রায় ৫ঘন্টা পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে শেষে মায়ের বুকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র তামিম ইকবাল। নিহত তামিম ইকবাল উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের চাকমার ডুরি এলাকার সৌদি প্রবাসি জসিম উদ্দিনের ছেলে ও বারবাকিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী।সোমবার (৩১ আগষ্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সোমার সন্ধ্যার দিকে তামিম ইকবালকে সাপে কামড় দেয়। রাত ১ টার দিকে হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ নিয়ে আসে। তাকে হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় আবুবক্কর নামের এক বৈদ্যের কাছে ঝাড় ফোক চিকিৎসা করা হয়। মায়ের অজ্ঞতা ও প্রতারক বৈদ্যের কারনে ছেলেটি প্রান হারিয়েছে। তামিম ইকবালের মা মাওয়া রেখা জানায়, ভাসুর নুরুল ইসলামের বাড়িতে ছিলাম তামিম আর আমি। সেখান থেকে আমরা বের হয়ে তামিম বাড়িতে চলে যায়। আমি চার্জে দেয়া মোবাইলের জন্য পাশের বাড়িতে যাই। বাড়িতে ঢুকার সময় দরজার সামনে উঠানে তামিমকে সাপে কামড় দেয়। সে সাপ বলে চিৎকার করে। সে কামড় দেয়ার কথা বলেনি। তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে। বড় ভাবী তসলিমার পরামর্শে পাশের আবু বক্কর বৈদ্যের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে ঝাড় ফোকের চিকিৎসা করা হয়। তাকে কিছু মরিচ ও পানি পান করা হয়। ভাল হওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। অবনতি দেখলে আবার দেখা করতে বলে বৈদ্য।দুইবার বমি হয়েছে। ছেলে ছটফট করলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তবে পথে মারা যায় তামিম। বৈদ্যের প্রতারনা ও নিজের অজ্ঞতার কারনে এ মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করেন মাওয়া রেখা। এদিকে শিক্ষার্থী তামিমের মৃত্যুর খবরে গা ঢাকা দিয়েছেন ভন্ড বৈদ্য আবু বক্কর। এ ব্যাপারে চাকমার ডুরি এলাকার মৃত,আমির হোসেন বৈদ্যের ছেলে আবু বক্করের সাথে বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি গা ঢাকা দেয়ার কারনে বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী জোহরা বেগম ও ছেলে আবু তাহের জানায়, রাতে সাপে কাটার একজন রোগি আসছিল। ডান পায়ে সাপে কাটা দাগ রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সে সুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে গেছে। পরে ডাক্তারের কাছে গেছে বলে শুনেছি। তবে তারা দাবী করেছেন, এ চিকিৎসা আবু বক্কর পিতার কাছে শিখেছেন। হাজার হাজার রোগি চিকিৎসায় ভাল হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক আসে চিকিৎসা নিতে। টাকা পয়সার কোন দাবী দাওয়া নেই। যে যেভাবে দেয়, সেভাবে নেয়। তাদের সুরে সুর মিলিয়েছেন কয়েকজন প্রতিবেশি নারী। তারা আবু বক্কর বৈদ্যের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তাদের মতে শত শত রোগী চিকিৎসায় ভাল হয়েছেন। বিগত এক যুগ ধরে আবু বক্কর এ চিকিৎসা করে আসছে। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে একাধিক নারী পুরুষ দাবী করেছেন এ ধরনের  চিকিৎসা প্রতারনা ছাড়া কিছু নই। সে একজন ভন্ড, প্রতারক। চিকিৎসা,বৈদ্যালীর নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনা করে আসছে। ভুল চিকিৎসার কারনে তামিমের মৃত্যু হয়েছে। এ দায়ভার আবু বক্কর বৈদ্য কিছুতেই এড়াতে পারেনা। তার ভুলের কারনে একটা তাজা প্রান ঝরে গেছে। এদিকে সাপে কাটা ও বৈদ্যের কাছে চিকিৎসা নেয়ার কথাটি সরাসরি অস্বীকার করে আসছিল তামিমের মা ও স্বজনরা। প্রতিবেশিরা প্রতিবাদ করলে পরে অকপটে সবকিছু স্বীকার করেন। স্থানীয়ারা জানায়, তানিমকে সাপে কামড়ানোর খবরে আমরা তার বাড়িতে ছুটে আসি। তখন সে স্বাভাবিক ছিল। সাপে কাটার কথা স্বীকার করেনি। শুধু দরজার সামনে সাপ দেখার কথা বলেছে। আমরা বাড়িতে চলে যাচ্ছিলাম। এ সময় তাদের ভিটায় একটা বড় বিষাক্ত সাপ দেখতে পাই। ফের বাড়িতে এসে তামিমের পা দেখলে কামড়ের দাগ দেখতে পাই। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তামিমের মা আজিজুল হাকিম জানায়, অজ্ঞতা ও ভন্ড বৈদ্যের কারনে আমার ভাগিনার মৃত্যু হয়েছে। যথা সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এ দুর্ঘটনা হতোনা। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানায়, সাপের কামড়ে একজন ছাত্র মারা গেছে বলে শুনেছি

79600cookie-checkকক্সবাজারের পেকুয়ায় সাপের কামড়ে নিয়ে গেল বৈদ্যের কাছে,শেষে ফিরল লাশ হয়ে

Author: Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *